1. badsha.dru@gmail.com : admi2017 :
  2. nadibandar2020@gmail.com : Nadi Bandar : Nadi Bandar
গাছ কাটা নিয়ে হবে মতবিনিময়, প্রয়োজনে নকশা পরিবর্তন - Nadibandar.com
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
নদী বন্দর প্রতিনিধি:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১
  • ১৪৩ বার পঠিত

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা নিয়ে পরিবেশবিদ ও নগরবিদসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে সরকার। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনে প্রকল্প এলাকার নকশা পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মঙ্গলবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করছি। উদ্যানের যে গাছগুলাে না কাটলেই নয়, কেবল সেগুলােই কাটা হয়েছে এবং এর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত ১০ গুণ বেশি গাছ লাগানাে হচ্ছে। এরপরও মানুষের উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে ঈদের পর আমরা পরিবেশবিদসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহােল্ডার ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সাথে আলােচনা করব এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে সােহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাজ চলমান রাখা যায় তার উপায় বের করার চেষ্টা করব। তবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তি সংগ্রামের সাথে সম্পর্কিত সােহরাওয়ার্দী উদ্যানের সকল ঐতিহাসিক স্থান যথাযােগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য গাছ কাটা হলে তা দুঃখজনক। যদি এমন হয়, নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। দায়িত্ব পালনে অসাবধান হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। কোন প্রেক্ষাপটে গাছ কাটা হয়েছে তা যাচাই করে দেখা হবে। সেখানে ব্যত্যয় ঘটেছে কি-না দেখব। যারা প্ল্যান করেছেন, তাদের নিয়ে সরেজমিনে দেখে, যদি গাছ কাটায় সতর্ক না থাকে তবে ব্যবস্থা নেব।’

‘নকশায় কতটুকু কী পরিবর্তন করতে হতে পারে, তা আলোচনা করে দেখব। আরও উন্নতি করা যায় কিভাবে, সেজন্য যা যা করণীয় তাই করব। গাছ কাটা আমাদের উদ্দেশ্য না। যত কম কাটা যায় বা কোনো গ্যাপ না রেখে কাজ কীভাবে করা যায়, আলোচনা করে তা ঠিক করা হবে। কি করব তা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে, সবাইকে জানিয়েই করব।’

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও ঘটনাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঐতিহাসিক সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতােমধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভুগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রভৃতি নির্মাণ করা হয়েছে। সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযােগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিকমানে গড়ে তােলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

‘এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ যেমন, পাকিস্তানি শাসনবিরােধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত ভাস্কর্য স্থাপন, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেইন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ীর কার পার্কিং, ৭ টি ফুড কিয়স্ক (মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের পৃথক টয়লেট ফ্যাসিলিটিসহ) ও শিশুপার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এত বড় এলাকায় এত মানুষের সমাগম হয় তাতে কোনো টয়লেট ফ্যাসিলিটিজ এবং রিফ্রেশমেন্টের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পরিবারসহ দর্শনার্থীরা উদ্যানে যাতে ভ্রমণ করতে পারে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে পারে, তার সব ব্যবস্থা এখানে করা হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যােগাযােগমাধ্যমে খাবারের দোকান-ভাতের হােটেল ইত্যাদি বানানাের জন্য গাছ কাটা হচ্ছে মর্মে যে অপপ্রচার চালানাে হচ্ছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। প্রকৃতপক্ষে, মুক্তিসংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত স্থানসমূহ সংরক্ষণে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সেই আলােকে সােহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্থানসমূহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।’

‘সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে গৃহীত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছােট-বড় কিছু সংখ্যক গাছ কাটা হলেও প্রথম পর্যায়ে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানাের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ইতােমধ্যেই আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করেছি। এ লক্ষ্যে দেশের প্রখ্যাত উদ্ভিদবিদ-উদ্যানতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হচ্ছে।’

নদী বন্দর / পিকে

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Nadibandar.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com