করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকার আরোপিত কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে সকাল থেকেই ঝরেছে বৃষ্টি। এদিন সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে বসেই দিন কেটেছে অধিকাংশ নগরবাসীর। সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভোরেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। তাদের সঙ্গে মাঠে ছিল সেনাবাহিনী ও বিজিবি।
সকাল থেকেই তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়ার জনগণকে মাইকে অনুরোধ জানান। বিভিন্ন চেকপোস্টে অপ্রয়োজনে বের হওয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সকাল ১০টার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হলে রাস্তাঘাটে মানুষের সংখ্যা কমে যায়। সকালের দিকে চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেলে তারা বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন।
লকডাউনের প্রথমদিন বেলা ৩টা পর্যন্ত শহরে তেমন জনসমাগম দেখা যায়নি। অধিকাংশ নগরবাসীই ঘরে ছিলেন।
এ প্রতিবেদক রাজধানীর আজিমপুর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক ঘুরে দেখেছেন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, সংসদ ভবন মোড়সহ বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট ছিল একরকম ফাঁকা। বৃষ্টির কারণে যানবাহনগুলোকে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ না করেই ছেড়ে দেয়া হয়। তবে এ পথে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে এবং বনানী মোড়ে চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া, বিমানবন্দর সড়কে যানবাহনের বেশ চাপ ছিল।
ফিরতি পথে মহাখালীতে ব্র্যাক কার্যালয়ের কাছে, গুলশান শ্যুটিং ক্লাবের বিপরীত দিকে এবং তেজগাঁও বিজি প্রেসের সামনের চেকপোস্টে তল্লাশি ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা কম ছিল। আজিমপুর থেকে বিমানবন্দর ও ফিরে আসার সময় মহাখালীর ব্র্যাক অফিসের সামনে বিজিবির একটি এবং তেজগাঁও নাবিস্কো মোড়ে কয়েকটি সেনাবাহিনীর গাড়িকে টহল দিতে দেখা যায়।
বিভিন্ন চেকপোস্টে কর্মরত আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, এদিন যারা রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই জরুরি কাজের জন্যই বের হয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
নদী বন্দর / এমকে