‘শুনলাম, কঠোর লকডাউন চলছে। পথে পথে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই জরিমানা। যানবাহন নিয়ে বের হলে মামলা। কিন্তু কোথায় কী! চেকপোস্ট কোথায়? এই যে অসংখ্য গাড়ি ও মানুষজন চলাচল করছে, তারা কী সবাই জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছেন?’
রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মাসুদুর রহমান বুধবার দুপুরে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে এ কথাগুলো বলছিলেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে ১ জুলাই থেকে চলমান কঠোর লকডাউনের সপ্তম দিনে তিনি বেশ কিছুক্ষণ ধরে হাতিরপুলের দিক থেকে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রাস্তায় এলোমেলোভাবে দ্রুতগতির যানবাহন ও রিকশা চলাচলের জন্য তিনি রাস্তা পার হতে না পারায় এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মাসুদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন এত মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে, তবুও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। পুলিশ, সেনা, বিজিবি ও র্যাব নামিয়েও লকডাউন শতভাগ সফল হচ্ছে না। যতটুকু লকডাউন পালিত হচ্ছে, তা যতটুকু না মানুষ সচেতন হয়ে পালন করছে, তার চেয়ে বেশি মামলা ও জরিমানার ভয়ে পালন করছে। তা না হলে এ দৃশ্য দেখা যেত না।’
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সড়ক ও মহাসড়ক ঘুরে গত ছয়দিনের লকডাউনের তুলনায় সর্বত্র ঢিলেঢালা ভাব দেখা যায়। রাস্তাঘাটে সকাল থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, লরি, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ অধিক সংখ্যায় যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।
গত ছয়দিন রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র ও আরোহীকে বাইরে বের হওয়ার কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেলেও সেসব চেকপোস্টের অধিকাংশেই আজ সে দৃশ্য চোখে পড়েনি।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) শাহবাগে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের তল্লাশি চললেও আজ তেমন চেকপোস্ট চোখে পড়েনি। নিউমার্কেট, পলাশী, সায়েন্স ল্যাবরেটরিসহ অন্যান্য বেশকিছু চেকপোস্টও ছিল কার্যত ফাঁকা। চেকপোস্টের সামনে পুলিশ থাকলেও গত কয়েকদিনের তুলনায় তারা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ রোধে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে ও লকডাউন সম্পূর্ণভাবে পালন করতে হবে। বর্তমানে যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
নদী বন্দর / এমকে

