আড়াই লাখ টাকা খরচ করে জামালপুর থেকে একটি গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছেন আসাদুল ইসলাম। এখন সেই গরুর দাম উঠেছে দেড় লাখ টাকা। ক্রেতাদের দাম শুনে হতাশ এই ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরুর দড়ি হাতে নিয়ে হতাশ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন আসাদুল ইসলাম।
মিনিট দশেক সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে তিনজনকে গরুর দরদাম করতে দেখা যায়। এর মধ্যে একজন সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা দাম দিতে চান। দরদামের একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় গরুটি বিক্রি করতে রাজি হন। কিন্তু এ দামেও গরুটি বিক্রি হয়নি।
হতাশ মুখে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার গরু নিয়ে হাটে এসেছি। ট্রাক থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে গরুর দাম ৩ লাখ টাকা উঠেছিল। কিন্তু সে সময় বিক্রি করিনি। এখন তার অর্ধেক দামও পাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘এলাকা থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছি। ঢাকায় আনতে গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ আছে। সব মিলিয়ে এই গরুর পেছনে আমার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন গরু বিক্রি করতে না পারলে লোকসান আরও বেশি হবে। তাই লোকসান দিয়ে এই গরুটি বিক্রি করে দিতে চাচ্ছি।’
আসাদুল আরও বলেন, ‘এই গরুর মাংস মিনিমাম ১২ মণ হবে। গ্রামের হাটে বিক্রি করলেও এই গরু আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। আমি পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় গরু নিয়ে আসছি। এমন ধরা আগে কখনো খাইনি।’
আসাদুল বলেন, ‘যারা হাটে যায় টুকটাক গরু কিনে তারা দাম ভালোই জানে। এরপরও কেউ কেউ এই গরুর দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলছে। বলেন তো ভাই এই গরুর দাম কিভাবে ১ লাখ ২০ টাকা হয়? ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করলেও এই গরুর মাংস বিক্রি হবে আড়াই লাখ টাকা। বাজারে এখন কোথাও কি ৫০০ টাকা কেজি গরুর মাংস পাওয়া যায়?’
তিনি বলেন, ‘গত বছর এমন পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছিলাম। সব থেকে কম দামে যেটি বিক্রি করেছিলাম সেটার দাম ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আশা করেছিলাম এবার গরুর খুব ভালো দাম পাব। ছোট চারটি গরু কিছুটা লাভে বিক্রি করতে পেরেছি। ধরা খেয়ে গেছি এই বড় গরুটা নিয়ে।’
নদী বন্দর / সিএফ