বিধিনিষেধে রাজধানী ঢাকায় মানুষের চলাচল ছিল কম। সাতদিন হলো শিথিল হয়েছে সেই বিধিনিষেধ। ফলে ফের পুরোনো চেহারায় ফিরেছে এই যান্ত্রিক নগরী।
বুধবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে ঢাকার আকাশ ছিল কখনও মেঘাচ্ছন্ন, কখনও বৃষ্টি, আবার কিছুক্ষণ পর কাঠফাটা রোদ। সব মিলিয়ে সড়ক, পাড়া-মহল্লা মুখরিত হয়ে উঠে মানুষের পদচারণায়।
সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, মার্কেট, শপিংমল, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যক্তিগত যান, আবার কেউ গণপরিবহনে গন্তব্যে ছুটেন। ফলে বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।
এর আগে বিধিনিষেধে ট্রাফিক পুলিশ অলস সময় কাটালেও তা শেষ হওয়ার পর ব্যস্ততা বাড়ে তাদের। বিভিন্ন সড়কে, বিশেষ করে রাজধানীর যেসব এলাকায় যানবাহন চলাচল বেশি ও যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী সে এলাকার যানবাহন নিয়ন্ত্রণে তাদের হিমশিম খেতে দেখা যায়। এর মধ্যে আবার বুধবার সকালে ও মধ্য দুপুরে দুই দফায় হঠাৎ করে বৃষ্টি নামার কারণে অনেকেই রাস্তায় কাকভেজা হন।
গত ১১ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। এ সময় করোনাসংক্রমণ ও মৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা শতভাগ মানুষকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও জনসমাগমস্থল এড়ানোর পরামর্শ দেন। তবে খুব কমই তা মানতে দেখা যায়।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর অবধি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকায় জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাটে হাজার হাজার মানুষ। অধিকাংশের মুখে মাস্ক থাকলেও সঠিকভাবে পরছেন না। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় (১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার) যা অস্থায়ী দমকায় ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বা তারও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
নদী বন্দর / পিকে