ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর অলি-গলি, পার্ক ও খেলার মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে শুধু ছাগল আর ছাগল দেখা গেছে। অলি-গলিতে ঢুকলেই দেখা যায় ব্যাপারিরা ছাগল নিয়ে ঘুরছেন, ক্রেতাদের ডাকছেন। প্রতি ব্যাপারির হাতে থাকে অন্তত ৮-১০টা করে ছাগল। আর সহযোগীদের হাতে থাকে ছাগলের খাদ্য কাঁচা পাতা, ভুসি ও খড়। ‘ছাগল নেবেন ছাগল…’ বলার সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাট-বাসা থেকে দৌড়ে নেমে আসছেন ক্রেতারা। দরদাম করছেন, বনিবনা হলে বেচা-বিক্রিও হচ্ছে ভালো।
তবে অনেকে অভিযোগ করেছেন হাটের চেয়ে বেশি দাম চাচ্ছেন ব্যাপারিরা। আবার বাসার চারপাশের রাস্তা ছাগলের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে, গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে অস্বস্তি বাড়ছে। অনেকে বলছেন, ‘বাসার গলিতে ছাগল পাচ্ছি, হাটের ঝামেলা থেকে অন্তত মুক্তি পাচ্ছি।’
এদিকে ব্যাপারিরা বলছেন, ‘আমরা মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ছাগল বিক্রি করছি, এতে অনেক খরচ হচ্ছে, কষ্ট হচ্ছে। তবে, হাটে গেলে হাসিলসহ আরও অনেক খরচ হয়, সেগুলো হেঁটে বিক্রি করলে হয় না।’
মোহাম্মদপুর বাবর রোডের স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন। তারা তিন পুরুষ ধরে থাকেন ঢাকায়। তিনি বলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকেই কোরবানির সময় বাসার আশেপাশে ছাগল বিক্রি করতে দেখি। এবার একটা গরু ও দুইটা ছাগল কোরবানি দেবো। গরু কিনি হাটে থেকে, কিন্তু ছাগল বাসার নিচে থেকে কিনি। ছোট বাচ্চারা এখান থেকে পছন্দ করে। দু-একদিন ধরে রাত-বিরাতেও বাসার অলিগলিতে ছাগল দেখা যায়।’
হেলাল উদ্দিনের চার বছরের ছেলে রিফাত ফারদিন ব্যাপারির ছাগল নিয়ে খেলা করছে। সে বলে, ‘আমরা দুইটা ভ্যা ভ্যা (ছাগল) কিনেছি। একতা (একটা) গুলু (গরু) কিনেছি।’
ঢাকার গ্রিন রোডে ভাড়া বাসায় থাকেন আলমগীর হোসেন। আলমগীর একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘এবার কাজের চাপে গ্রামে যেতে পারিনি। তাই ঢাকায় একটি বড় ছাগল কিনে কোরবানি দেবো। বাসার পাশ থেকে কিনবো, হাটে যাওয়ার সময় পাচ্ছি না। ঈদের সময় গলিতে ছাগল পেয়ে সুবিধা হয়েছে। সময় এবং গাড়িভাড়া দুটোই সাশ্রয় হলো।’
এদিকে, ঢাকার অলিগলিতে ছাগল বিক্রির অভিজ্ঞতা জানালেন ব্যাপারি রঞ্জু মিয়া। তিনি বলেন, ‘এবার এ পর্যন্ত আমি ২৭টি ছাগল এভাবে হেঁটে হেঁটে বিক্রি করেছি। হাটে গেছিলাম, ছাগলের দাম কম, তাই শহরে ঢুকছি। এখানে দাম ভালো পাই, কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে কাম সারা। খাওয়া-গোসল ঠিক নাই। অনেকে আবার বাসার সামনে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে দেয় না।’
রঞ্জু মিয়ার সহযোগী সাকিল (ছদ্মনাম)। পড়াশোনা করেন ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি কলেজে। গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ। তিনি ঈদের সময় ছুটি পেয়ে পাশের বাড়ির বড় ভাইয়ের সঙ্গে এসেছেন ছাগল বিক্রি করতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের ছয়টা ছাগল নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে এসেছি বিক্রি করতে। ভাই বললো, চলো ব্যবসা করি। তাই হাতে যেহেতু সময় আছে, ব্যবসায় নেমে পড়লাম। ভালোই বিক্রি হচ্ছে। এই আয়ের টাকা দিয়ে আমাদের পরিবারের চলাটা সহজ হবে।’
ফার্মগেট রাজাবাজারে ঘুরে ঘুরে ছাগল বিক্রি করছেন হিরোন মিয়া। তিনি বলেন, ‘হাটে প্রচুর ছাগল উঠছে। সেখান থাইক্কা ৯টা ছাগল কিনে আনছি ব্যবসা করতে। ইতিমধ্যে ৪টা বিক্রি কইরা দিছি। পাঁচটা আছে, একটু ভালো লাভ পাইলেই বেইচ্চা দিমু। আমি মূলত ঢাকায় ছোট থেইক্কা রিকশা চালাই। একেক ঈদে একেকরকম ব্যবসা করি। এবার ঈদে ছাগল লইয়া নামছি।’
নদী বন্দর/এসএফ