শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ তুলনা করার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দেশ সমভাবে চলছে না। ইউকে তাদের বিদ্যুৎ ও ফুড সাপ্লাইয়ে পরিবর্তন এনেছে। ইউরোপের অনেক দেশে স্থিতিশীল অবস্থা নাই। এর মধ্যেও বাংলাদেশ ভালো আছে, এ কথাটা কেউ বলতে চান না। আমাদের অবস্থা কি? রিজার্ভ কতে? এগুলো তো বৈশ্বিক সমস্যা। ইউরোপ, ভারত, পাকিস্তান সবার মুদ্রার যে অবস্থা, তাতে তারা দুশ্চিন্তায় আছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে। বাংলাদেশ যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ তুলনা করার বিষয় নয়।
তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি শুধু নারায়ণগঞ্জে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও সব প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটি দ্রুত শুরু করতে পারবো। দক্ষিণ সিটির কাজটি প্রক্রিয়াধীন আছে, চট্টগ্রাম সিটিও পাইপলাইনে রয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন কীভাবে বর্জ্য সংরক্ষণ করবে, এর জন্য একটা মডেল আছে। সিঙ্গাপুর কিন্তু টেন্ডার করে, সেখান থেকে তারা লাভও করে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে খরচ সেটি তাদের দিতে হয় না, বরং তারা সেখান থেকে কিছু লাভ পায়। প্রাইভেট কোম্পানীগুলো বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রক্রিয়া করে। বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ ক্রয় করবে, তাই স্বাভাবিকভাবে সমস্যাটা সমাধান হয়ে যাবে। পৌরসভা ও গ্রামকেও আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে যেতে চাই।
মন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে বর্জ্য বাড়ছে। এখন ব্যবহার বাড়ছে, তাই বর্জ্য বেশি হবে। যদি গ্রাম এলাকা পর্যন্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করতে পারি তাহলে আমাদের ব্যালেন্স নষ্ট হবে। আর এটি আমাদের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারবে। সেজন্য আমরা গ্রাম পর্যন্ত এটি করবো, পৌরসভায় প্রকল্প নিচ্ছি। ২০-৩০টি পৌরসভাকে আমরা প্রথম দিকে এটির আওতায় আনবো।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি অনুযায়ী বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৬০০ টন বর্জ্য দরকার হয়, সেটি হলে তা অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। টেকনোলজি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে, এখন যে প্রযুক্তি তাতে আগের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। বেশি উৎপাদন করা গেলে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
নদী বন্দর/এসএইচ