মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে সামনে রয়েছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছেন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের প্রয়োজন দক্ষ ও মেধাসম্পন্ন জনসম্পদ। গর্ভাবস্থা থেকেই মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।
এই সহায়তা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আমরা মেধাসম্পন্ন দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে পারব।
আজ মঙ্গলবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা এসব কথা বলেন।
ইন্দিরা বলেন, ‘শিশুর সুষ্ঠু শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের জন্য শিশুদের জীবনের প্রথম আট বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুর শিক্ষা ও বিকাশের ভিত্তি রচিত হয়। শিশুর সঠিক প্রারম্ভিক বিকাশ মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। একটি মেধাসম্পন্ন জাতি গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিশুবান্ধব সরকার শিশুর খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষা ও শিক্ষা নিশ্চিত করছে। ‘
তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর থেকে ১২ লাখ ৫৪ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮০০ টাকা করে তিন বছর এ সহায়তা প্রদান করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে ষাট লাখ মা ও শিশুকে এ সহায়তা প্রদান করা হবে। ‘
জাতির পিতা সংবিধানে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পরপরই শিশুদের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। ‘
খুলনা জেলা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন।
এ সময় জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবেদা সুলতানা, খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তালুকদারসহ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, ‘এ কর্মসূচির মাধ্যমে মা ও শিশুর খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত হবে। এর ফলে মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে এগিয়ে যাব আমরা। এই মহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ‘
কর্মশালায় খুলনা বিভাগের পাঁচটি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সমাজসেবা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যোগদান করেন।
নদী বন্দর/এসএইচ