ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এবং গাজা যুদ্ধ বন্ধে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে এক বৈশ্বিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে ফ্রান্স এবং সৌদি আরব। গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তীব্র আগ্রসনের ফলে পরিকল্পিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত’ হতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩ টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) শুরু হতে যাওয়া এই সম্মেলনে নেতৃত্ব দেবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যোগ দেবেন।
ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং পর্তুগাল এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর সম্মেলনের মধ্যে এবং পরে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, সান ম্যারিনো, অ্যান্ডোরাসহ আরও কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের একদিন আগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতারা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের শীর্ষ মিত্ররা এই সম্মেলন বয়কট করেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বৈশ্বিক এ সম্মেলকে একটি ‘সার্কাস’ হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করে’।
অন্যদিকে একের পর এক দেশের ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘোষনায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর তার অতি-ডানপন্থী সরকার প্রতিক্রিয়ায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের আংশিক বা সম্পূর্ণ সংযুক্তির কথা বিবেচনা করছে, তবে নেতানিয়াহুর মার্কিন সমর্থন এবং আবরণ প্রয়োজন, যা তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের জন্য নিউইয়র্কে থাকাকালীন চাইবেন।
জাতিসংঘ আশা প্রকাশ করেছে, এই শীর্ষ সম্মেলন দুটি রাষ্ট্রের দিকে জাতিসংঘের রোডম্যাপ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে।
মূলত এই সম্মেলনে ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’-এর ওপর আরও জোর দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি এই মাসের শুরুতে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ আয়োজনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
এই প্রস্তাবকে ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ বলা হচ্ছে। ঘোষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও অনাহারও চরম অমানবিক। এতে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট, সময়সীমা-সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সূত্র: আলজাজিরা
নদীবন্দর/এএস