তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচিতে রাত্রিযাপনসহ সেখানেই রান্না ও লোকসঙ্গীতের আয়োজন ও নাইট টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা পূর্ণ উদ্যম নিয়ে অবস্থান করছে। এছাড়া তারা তিস্তার অবস্থা বিশ্ববাসীকে জানাতে রাতে হাজার হাজার মশাল জ্বালিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে ১১টি পয়েন্টে লক্ষাধিক মানুষ দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এরপরেই তারা মঞ্চে জন সমাবেশে মিলিত হবে। বিকেলে দ্বিতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া অবস্থান কর্মসূচির মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
এর আগে আন্দোলনকারীরা রাত্রিযাপনের জন্য কম্বল-লেপসহ যাবতীয় জিনিসপত্র ও খাবার নিজ খরচে রান্না করছেন। এছাড়া তারা তিস্তার অবস্থা বিশ্ববাসীকে জানাতে রাতে হাজার হাজার মশাল জ্বালাবেন।
তিস্তাপাড়ের মানুষ এ আন্দোলনে অংশ নিয়ে নদীটির করুণ কাহিনী বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চায়, পানির ন্যায্য হিস্যাসহ তিস্তায় বাঁধ ও খনন চায়। আন্দোলনকারীরা বলেন, অবস্থানরত কর্মীরা যেন উৎসাহ হারিয়ে না ফেলে সে কারণে তরুণকর্মীরা বিভিন্ন গান পরিবেশন করছেন। এছাড়া মঞ্চে চলছে লোকসংগীত। প্রাচীন যুগের নাট্যগোষ্ঠী তাদের পরিবেশন করছেন।
তিস্তা তীরবর্তী জয়নাল আবেদীন বলেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের যে চুক্তি রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটির মহাপরিকল্পনা করে এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই এ অবস্থান কর্মসূচি সফল হবে, না হলে এ আন্দোলন ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা আশা রাখছি এই আন্দোলন সফল হয়ে তিস্তা তীরবর্তী মানুষের আশা পূরণ হবে।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন সমন্বয়ক ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, সারারাত আন্দোলনকারীরা কষ্ট করে অবস্থান নিয়েছিলেন এজন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আজকের রাতেও ব্যাপক আয়োজন রয়েছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শেষ হবে।
নদী বন্দর/এসএইচ