বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘কমনওয়েলথ ডিজিটাল লার্নিংয়ে দক্ষতা অর্জনকারী গ্রাজুয়েটদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। চলমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ডিজিটাল হয়েছে, সর্বক্ষেত্রে অটোমেশন চালু হয়েছে, এখন দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। ই-কমার্স, ডাটা অ্যানালাইসিস, ই-ফার্মিং, ই-অ্যাগ্রিকালচার বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এজন্য কারিগরি দক্ষতা খুবই প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উঠে আসা দক্ষ জনশক্তিকে আমাদের কাজের লাগাতে হবে। এতে করে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো উপকৃত হবে।’
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) কমনওয়েলথ অফ লার্নিং এশিয়ান কনভোকেশন-২০২১ এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। কনভোকেশনে বিশেষ বক্তা হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন মালদ্বীপের হায়ার এডুকেশন মিনিস্টার ড. ইব্রাহিম হাসান, শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর জি এল পেইরিস।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অনলাইনে প্রশিক্ষণ বিপুল সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ সুুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। ডিজিটাল ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন এবং ইন্টার পার্টনারশিপের মাধ্যমে তা কাজে লাগানো প্রয়োজন। কমনওয়েলথ ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ট্রেনিং, করোনাকালে এবং পরবর্তী সময়ে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো বেকার জনবলকে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। কমনওয়েলথ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের আসন্ন মিটিংয়ে উল্লিখিত বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। অতি সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতকরণের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ প্রদাণ করেছে। চলমান করোনা মহামারির কারনে নানামুখি চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে এক যোগে।’
বাংলাদেশসহ সব দেশের কমনওয়েলথ কোর্স গ্রাজুয়েটদের স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে দক্ষতা অর্জন করে তা কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং ডিজিটাল সেক্টরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেকে একজন দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমনওর্য়েথ অফ লার্নিংয়ে র স্পেশাল অ্যাডভাইজার ড. নাভিদ মালিক। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কুরসিরার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার জেফ মেগিঅনকলডা, কনভেকেশন বক্তব্য রাখেন কমনওয়েলথ অফ লার্নিংয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার প্রফেসর আশা কানওয়ার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কমনওয়েলথ অফ লার্নিংয়ের অ্যাডভাইজার (স্কিল) ড. বাশিরহামাদ শাধরাচ।