করোনাভাইরাসের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থা ঠিক রেখে সরকার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরর জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস এবং মহান মে দিবস-২০২১ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সকলেই বৈশ্বিক মহামারি করোনা নামক অদৃশ্য এক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। সকলের সহযোগিতা আর সচেতনতায় আমরা এ যুদ্ধে অবশ্যই জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী করোনা সংক্রমণের শুরুতেই চিন্তা করেছেন শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের কথা। প্রথমেই তিনি শ্রমিক ভাই-বোনদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে রফতানিমুখী শিল্পের মালিকদের প্রণোদনা, ঋণ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। তিনি মহামারির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণে আমাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে রফতানিমুখী শিল্প গার্মেন্টস এবং চামড়া শিল্পের কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান ফেডারেলের সহযোগিতায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ১৫’শ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। এ তহবিল হতে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৩১ জন শ্রমিককে তিন মাসের বেতনের জন্য ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার লক্ষ্যে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন সচল রাখতে কমিটিগুলো সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিরলসভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার নির্দেশনা দিচ্ছে। আমার মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজি এবং শ্রম অধিদফতরের ডিজি শ্রমঘন এলাকায় গিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর এবং শ্রম অধিদফতরের চিকিৎসক দিয়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকগণ মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ২৪১ জন শ্রমিককে চিকিৎসা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শ্রমিকদেরকে এবং তাদের সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষায় এ পর্যন্ত শ্রমিক কল্যাণ তহবিল হতে ৪১ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ৩৫৫ টাকা সহায়তা দিয়েছি। প্রতিনিয়ত আবেদন পাচ্ছি এবং সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। শুধু গার্মেন্টস শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল নামে ভিন্ন একটি তহবিল গঠন করেছি।
‘গার্মেন্টস কর্মীদের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা এমনকি তাদের বীমার দাবিও এ তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়। এ তহবিল হতে ৮৯ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৯৭২ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।’
মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আগামীকাল ২৮ এপ্রিল জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসের বাইরের সকল কর্মসূচি বাতিল করে দিবসটির মূল অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি আয়োজন করেছি। আগামীকাল রাত সাড়ে ৮টায় আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি। এখানে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাগণ, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন এবং শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করবেন। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাণী দেবেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এ বছর এ দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়েছে- মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ হোক সবার।’
ভার্চুয়ালি এ সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত ছিলেন- মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত সচিব (শ্রম) ড. রেজাউল হক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, শ্রম অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দল লতিফ খানসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল অধিদফতর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
নদী বন্দর / পিকে