পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি স্বরূপে ফেরেনি রাজধানী। ঈদের দুই-তিন দিন আগে থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে যারা স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে গিয়েছিলেন, তারা ধীরে ধীরে ফিরছেন।
তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ (বুধবার) সকাল থেকে রাজধানী ধীরে ধীরে স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাটে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। সেই সঙ্গে গণপরিবহন, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল বেড়েছে। কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন বাস স্টপেজে খালি বাস দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকাডাকি করতে দেখা গেলেও, আজ সেরকম দৃশ্য চোখে পড়েনি। তুলনামূলক যাত্রী কম থাকলেও দু-চারজনকে তুলে নিয়েই স্টপেজ ছাড়তে দেখা গেছে বাসগুলোকে।

এদিকে ঈদের প্রায় সপ্তাহ শেষে আজ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ছোট-বড় শপিংমল ও দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও বেচাকেনাও টুকটাক হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, মূলত আজ তারা দোকানপাট খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পরবর্তী পাঁচদিনের চেয়ে আজ মানুষের উপস্থিতিতে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও অলিগলি থেকে রাজপথ মুখরিত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। তবে করোনা সংক্রমণ রোধ বার বার মুখে মাস্ক পরিধানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মনে চলার সরকারি নির্দেশনা ও অনুরোধ থাকলেও, বেশিরভাগ মানুষ তা আমলেই নিচ্ছেন না। মাস্ক পরছেন না অনেকেই। আর যারা পরছেন তারা সঠিকভাবে পরছেন না।

নিউ মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটের দোকানের চেয়ে এ এলাকার ফুটপাতে ভাল বেচাকেনা হচ্ছে। শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের ঐতিহ্য নামের একটি দোকানের কর্মচারী জানান, ‘ঈদের পর আজই দোকান খুলেছি। টুকটাক বিক্রি হচ্ছে।’
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, তিনি নিজের ও ছেলের জন্য টি-শার্ট কিনতে এসেছেন। ছয়টি টি-শার্ট দুই হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। আজিজ সুপার মার্কেটে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের টি-শার্ট পাওয়া যায় বলে ঘুরে ফিরে একসঙ্গে দুজনের জন্য ছয়টি টি-শার্ট কিনেছেন।
নদী বন্দর / জিকে