ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে বিহারি ক্যাম্প থেকে উর্দুভাষীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দ্য স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপাট্রিয়েশন কমিটি (এসপিজিআরসি)।
বুধবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এম শওকাত আলী।
লিখত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের ১৩টি জেলায় ৭০টি ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন উর্দুভাষীরা। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার মিরপুরে ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষীদের গাজীপুর জেলায় এবং মোহাম্মদপুরে বসবাসরতদের কেরানীগঞ্জে পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন। এমন সময় কিছু সংস্থা এবং প্রভাবশালী মহল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা প্রশস্ত করার নামে বিনা নোটিশে মিরপুর ১১-এর রাস্তার পাশে অবস্থানরত ক্যাম্পবাসীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে। এতে প্রায় এক হাজার উর্দুভাষী পরিবার ও দোকানদার উচ্ছেদ হয়েছে। উচ্ছেদকৃতরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
সংগঠনটি আরও বলে, ‘নারায়ণগঞ্জ শহরে কুমুদিনী বাগান ও কোম্পানি বাগান-এই দুই ক্যাম্পে প্রায় ৪০০ উর্দুভাষীকে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল বিডি নামক সংস্থা উচ্ছেদের জন্য মৌখিকভাবে নোটিশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে সরকারের দেয়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।’
উর্দুভাষীরা অভিযোগ করেন, কেউ ক্যাম্প না ছাড়লে তাদের উচ্ছেদ করাসহ মামলা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এ নিয়ে তারা আতঙ্কিত রয়েছেন।
এ সময় এসপিজিআরসির সাধারণ সম্পাদক এম শওকাত আলী বলেন, ‘আমাদের এভাবে উচ্ছেদ করা হলে আমরা দুটি কার্যক্রম সামনে নেব। একটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আইডি কার্ড ফেরত দেব। অপরটি হচ্ছে দেশের সব জায়গায় ক্যাম্পগুলোতে সবাই গায়ে আগুন লাগিয়ে মরে যাব। দেশের ক্যাম্পগুলো খালি করে দিয়ে যাব।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- উর্দুভাষীদের মোহাম্মদপুরস্থ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দসহ মিরপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত ভুক্তভোগীরা।
নদী বন্দর / বিএফ