কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শিগগিরই জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’কে নিষিদ্ধ করা হবে।
বৃস্পতিবার (১ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পাঁচ বছর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, জেএমবির কয়েকজন সদস্যসহ জুন্নুদার তাওহিদ কানাডিয়ান প্রবাসী তামিম চৌধুরী বাংলাদেশে এসে নব্য জেএমবি তৈরি করে। পরবর্তীতে জেএমবির শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার (মামলার চার্জশিটভুক্ত ও নিহত জঙ্গি) সমন্বয়ে নব্য জেএমবি নামে সংগঠন তৈরি করে। তারা নিজেদের আইএস দাবি করে, এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলার পর কল্যাণপুর, নায়াণগঞ্জ, গাজীপুরসহ ২৩টি ‘হাই রিস্ক অপারেশন’ পরিচালনা করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এসব অভিযানে ৬৩ জন জঙ্গি নিহত হয়। সিটিটিসি তদন্ত শেষ করা দুটি মামলায় (হলি আর্টিসান এবং অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড) রায় হয়েছে যেখানে ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। সিটিটিসির অভিযানগুলোর জন্য জঙ্গিদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিনানে নৃশংস হামলার পর গত পাঁচ বছরে সিটিটিসি একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে। কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম-২৬, নারায়ণগঞ্জে অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭, গাজীপুরের পাতারটেকে অপারেশন স্পেট-৮সহ সিটিটিসি ২৩টি হাই-রিস্ক অপারেশনে ৬৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। সিটিটিসি তদন্ত শেষ করা দু’টি মামলায় (হলি আর্টিজান এবং অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড) রায় হয়েছে যেখানে ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে পাঁচজনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল গুলশানের ৭৯নং রোডের ৫ নম্বর বাড়ির হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশ করে। প্রবেশের পর তারা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে এবং হত্যাযজ্ঞ চালায়। সংবাদ শুনে দ্রুত সময়ে তৎকালীন আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এবং সকল বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অপারেশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরদিন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সমন্বয়ে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ শুরু হয়।
হলি আর্টিসান বেকারিতে সন্ত্রাসীরা মোট ২০ জনকে হত্যা করে জানিয়ে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি (৯ জন ইতালীয়ান, ৭ জন জাপানিজ একজন ভারতীয়)। অবশিষ্ট ৩ জনের মধ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক ও দুইজন বাংলাদেশি। সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি ৩২ বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে গিয়ে ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের জীবন উৎসর্গ করেন।
মামলার বিষয় উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, গুলশানে হলি আর্টিসান সন্ত্রাসী হামলার গুলশান থানার মামলা সন্ত্রাস বিরোধী আইন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির তদন্ত সংক্রান্তে যাবতীয় কার্যাবলি সম্পন্ন করেন। তদন্তে ঘটনায় সর্বমোট ২১ জন আসামির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে ১৩ জন আসামি বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হন।
তার মধ্যে পাঁচজন ঘটনাস্থলে অপারেশন থান্ডারবোল্ট এ নিহত হয়। তারা হলেন- মীর সাথে মোবাশ্বের (১৯), রোহান ইবনে ইমতিয়াজ (২০), নিবরাস ইসলাম (২৫), মো. খায়রুল ইসলাম পায়েল (২২), মো. শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (২৬)।
হলি আর্টিসান-পরবর্তী পুলিশি অভিযানে নিহত অপর ৮ জন আসামি হলেন- তামিম আহমেদ চৌধুরী (৩৩), মুরুল ইসলাম মান (২৩), সরোয়ার জাহান মানিক (৩৫), তানভীর কাদেরী (৪০), বাশারুজ্জামান চকলেট (৩২), মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম (৩৭), মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান (৩২) ও রায়হানুল কবির রায়হান ওরফে তারেক (২০)।
উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সিটিটিসি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কোমলের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে সিটিটিসি আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করেছে।
নদী বন্দর / পিকে

