রাজধানীর আজিমপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকার চার রাস্তার মোড়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ইউনিফর্ম পরা এক ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একজন ভদ্রমহিলা। ঢাকার আকাশে তখনও গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ঝরছে। সড়কে রিকশা, বাস ও লেগুনাসহ অন্যান্য যানবাহনও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম। এক হাতে মেয়ের হাত ধরে অন্য হাতে ছাতা নিয়ে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওই অভিভাবক।
বৃষ্টির দিনে সড়কে এমনিতেই রিকশার সংখ্যার কম, তার ওপর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। রিকশা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভদ্রমহিলা শিশু শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাসে উঠার চেষ্টা করেন। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে বাসেও উঠতে পারছিলেন না তিনি। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে।
আলাপকালে ভদ্রমহিলা জানান, মেয়েকে নিয়ে তিনি মতিঝিলের বাসায় যাবেন। আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও রিকশা পাচ্ছেন না। বৃষ্টির কারণে কোনো রিকশা সেদিকে যেতেই চাচ্ছে না। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া চাইছে। অন্যান্য সময়ে আজিমপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভাড়া ১০০ টাকা হলেও আজ রিকশাচালকেরা ২০০ টাকা বা তারও বেশি নিতে চাইছেন। তিনি দেড়শো টাকা বলার পরও কোনো রিকশা যেতে রাজি হচ্ছে না।
রোববার সকাল থেকেই রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ওইদিন রাতভর বৃষ্টির পর সোমবার সকালে শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জনভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করে। কমে যায় যান চলাচল। দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও কর্মস্থলগামী অসংখ্য মানুষ।
বৃষ্টিভেজা সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছাতা মাথায় ও রেইনকোট পরে গন্তব্যে ছুটছেন সারি সারি মানুষ। হঠাৎ বৃষ্টিতে ছাতা না থাকায় অনেকে মাথায় পলিথিন মুড়িয়েও যাত্রাপথে নেমেছেন। গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ঠাসাঠাসি করে অনেকে উঠতে পারেছেন না। বিভিন্ন রুটের লেগুনাগুলোতে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’র প্রভাবে গত দুদিন ধরেই ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে পারে। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
নদী বন্দর / বিএফ

