বগুড়ায় খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনে হারানো যৌবন ফিরছে করতোয়া নদীর। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় নদীর ডান তীরে স্লোপ প্রটেকশনের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। চলতি বছরে শেষ হবে সৌন্দর্যবর্ধনের চলমান কাজ। এতে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। জানা গেছে, করতোয়া নদীর বগুড়া অংশে পুনঃখনন ও স্লোপ প্রটেকশনের ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে করতোয়ার ১৭ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা থেকে সদর উপজেলার মাটিডালি পর্যন্ত এ খননকাজ গত বছরের ১৩ মার্চ উদ্বোধন করা হয়। ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় করতোয়া পুনঃখনন ও ডান তীরে স্লোপ প্রটেকশন কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে শহর অংশে ১৭ কিলোমিটার খনন, এসপি ব্রিজ থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত ৭৩৫ মিটার নদীতীর রক্ষা কাজের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা পাবে। এ ছাড়া নতুন করে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটিডালি থেকে নওদাপাড়া পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন হবে নদীর ডান তীর।
এদিকে করতোয়া নদীর খনন সম্পন্ন হলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে এ অঞ্চলের মানুষ মৎস্য আহরণ করতে পারবে। স্থানীয় কৃষক সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারবেন। বগুড়ার অর্থনীতি আরও চাঙা হবে।
পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, নতুন করে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটিডালি থেকে নওদাপাড়া পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে। এর আগে ১৭ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হয়েছে। বগুড়া অংশে মোট ২৮ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হচ্ছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরে শেষ হবে সৌন্দর্যবর্ধনের চলমান কাজ। জেলা প্রশাসন ভবনের পেছন থেকে এসপি ব্রিজ পর্যন্ত ৭৩৫ মিটার স্ল্যাবিংয়ের পাশাপাশি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এ প্রকল্পের আওতায়। চলছে দুই পারের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও। নদী খননে অগ্নিনির্বাপণের পানি সরবরাহের জলাধারসহ কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য চাষে সুবিধা পাবে এ অঞ্চলের মানুষ।
বগুড়া পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিপার আল-বখতিয়ার জানান, করতোয়ার বদলে যাওয়া রূপ দেখার প্রত্যাশায় এখন শহরবাসী। খননকাজ শেষ হলে এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে। কৃষিজমিতে পানি আটকে থাকবে না। যে করতোয়া ঘিরে এতকাল অনেকে অনেক কথা বলেছেন, সে নদীর সৌন্দর্য দেখার জন্য বাইরে থেকে লোকজন আসবে। সৌন্দর্যের নদী ঘিরে বগুড়া আরও আধুনিক নগরীতে পরিণত হবে। করতোয়া তার যৌবন ফিরে পাবে।
নদীবন্দর/জেএস