চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় ফের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এবার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮ জন।
আজ (বুধবার) সকালের দিকে চুনতি ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন চারজন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রাখাল চন্দ্র রুদ্র গণমাধ্যমকে বলেন, বাসের সঙ্গে দুই মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়েছে। মাইক্রোবাস দুটি কক্সবাজারমুখী ছিল৷ বাসটি ছিল চট্টগ্রামমুখী। প্রথমে বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসের পেছনে থাকা আরেকটি মাইক্রোবাস ধাক্কা দেয়। হতাহতদের বেশিরভাগই প্রথম মাইক্রোবাসে ছিলেন। ওই গাড়ির চালকও নিহত হয়েছেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভরঞ্জন চাকমা বলেন, ঘটনাস্থলে ৭ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। আমরা মোট ৮ জনের মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছি।
এর আগে ঈদের দিন অর্থাৎ ৩১ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই বাসের সঙ্গে মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছিলেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মতিন বলেন, ঘটনাস্থলে ৭ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৩ পুরুষ, ৩ জন নারী এবং একজন আনুমানিক ৭ বছর বয়সী মেয়ে শিশু রয়েছে। আমরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে হাসপাতালে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে ৫ জনকে। তন্মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। তিনিও মারা গেছেন। তার নাম দিলীপ। তিনি ঝিনাইদহের বোয়ালিয়া এলাকায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বার বার একই এলাকায় দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদিন আগেও এখানে দুর্ঘটনায় ৫ জন মারা গেছেন। আমার ৩ মাসের অভিজ্ঞতায় বলছি, কক্সবাজারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অপরিচিত চালকরা এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালান। তারা সড়কটি সম্পর্কে জানেন না। পাশাপাশি সড়কে যথাযথ সিগন্যাল নেই। দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই একটা বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। অন্য এলাকার চালক হলে এটা কতটুকু বিপজ্জনক বুঝতে পারেন না।
নদীবন্দর/জেএস