ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে থাকে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এবারের ঈদেও ব্যতিক্রম ছিল না। এর মধ্যে দেশের প্রধান চিড়িয়াখানায় তিন দিন মানুষের ঢল নামে। ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত তিন দিনে প্রচুর পশু-পাখিপ্রেমী ঘুরতে আসেন চিড়িয়াখানায়। এই তিন দিনে আড়াই লাখ দর্শনার্থী প্রবেশ করে ঢাকার অন্যতম এই বিনোদন কেন্দ্রে। তাদের থেকে টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে সোয়া কোটি টাকার বেশি।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন থেকে বুধবার (২ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত এই তিন দিনে সোয়া কোটির বেশি আয় হয়েছে।
এর মধ্যে ঈদের দিন তুলনামূলক ভিড় কম ছিল। সেদিন ৬০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টিকিট বিক্রি হয় ১ লাখ ৬০ হাজার। এছাড়া বুধবার (২ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার।
দর্শনার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন তারা। তবে প্রচুর ভিড় থাকায় কিছুটা অস্বস্তিবোধ করেছেন অনেকে। আর টিকিটের দামের ব্যাপারেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে অনেক দর্শনার্থী।
গত এক যুগে টিকিটের দাম বেড়েছে টাকার হিসেবে পাঁচ গুণ। ২০১২ সালের আগে টিকিটের দাম ছিল ১০ টাকা। ২০১২ সালে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা করা হয়। পরে ২০১৯ সালে ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা প্রবেশ ফি করা হয়।
টিকিটের মূল্যের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা খুব অল্প আয় করে ঢাকায় সংসার চালাই। তার মধ্যে পরিবার নিয়ে একদিন ঘুরতে বের হলে তিন দিনের আয়ের টাকা শেষ হয়ে যায়। আর এখানে টিকিটের মূল্য খুব বেশি৷ প্রবেশ ফি আরও কিছু টাকা কম হলে ভালো হতো।”
গার্মেন্টস কর্মী আসমা বেগম পুরো পরিবারসহ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসারই চলে না। ঈদে একটু ঘুরতে বের হয়েছি। কয়েক দিনের টাকা নাই৷ মাসের খরচের হিসাব থেকে এই টাকা বাদ দিতে হবে৷ তাই এমন ঘোরাঘুরির জায়গার টিকিটের দাম কম হলে আমাদের জন্য সুবিধা।’
সার্বিক বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদের ছুটিতে প্রচুর জনসমাগম হয়। শুরুর দিনে যেমন আশা করেছিলাম এবার তার চেয়ে একটু কম মানুষ এসেছে৷ তবে ঈদের পরের দিন আবার ঈদের দ্বিগুণের বেশি ১ লাখ ৬০ হাজারের মতো টিকিট বিক্রি হয়। এছাড়া ঈদের তৃতীয় দিন সকালেও প্রায় ৩০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। সকালের তুলনায় বিকেলে কয়েকগুণ বেশি চিড়িয়াখানায় আসেন।’
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই গরমে সকল দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা ও যানজট নিরসনের ব্যাপারে অনেকে কাজ করছে।’
নদীবন্দর/এএস