রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে আবারও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছেন। তারা কার্যালয়টিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার ঠিক পর কার্যালয়টির সামনে অবস্থান নেয় সাবেক ভিপি নুরের নেতাকর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মুহূর্তে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েক’শ লোকজন জড়ো হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে পুলিশ রয়েছে। তারা আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জল কামান ছাড়াও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি সেখান থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তার মধ্যেই আন্দোলনকারীরা থেমে থেমে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মেরে চলেছে। শত শত পুলিশ এই মুহূর্তে সেখানে অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জাপা কার্যালয়টির পূর্ব পাশের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে জাপা কার্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কে।
জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়টির সামনের অংশে সার্টারের বেড়া ভেঙে ভেতরে থাকা একটি আলমারি বের কর এনেছে আন্দোলনকারীরা। পরে বিক্ষুদ্ধ জনতা সেটিতে ও কার্যালয়টির একটি দরজা ভেঙে ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ।
হঠাৎ করেই বিক্ষুদ্ধ জনতা জাপার কার্যালয়ের সামনে আসে এবং ভাঙচুর চালায়। তবে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক পাহারায় থাকায় তেমন ক্ষতি করতে পারেনি। এই পুলিশ ছাড়াও বহু সাংবাদিক সেখানে রয়েছেন।
এর আগে বিকেলে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা তাদের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা বিজয়নগর থেকে একটি মিছিল নিয়ে নাইটএ্যাঙ্গেল মোড়ের দিকে যান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে রমনা থানার ওসিকে বারবার কল করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার (৩০ আগস্ট) জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দলটির নেতাকর্মীরা ও গণঅধিকার পরিষদ।
এসময় যৌথ বাহিনী ও পুলিশের লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। তার মধ্যে গুরুতর আহতাবস্থায় নুর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।
নদীবন্দর/জেএস