জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিছিল থেকে বিক্ষুদ্ধ জনতার হামলার সময় ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও নেতাকর্মীরা। পরে তাদের উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার সময় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গণধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিকেলে বিজয়নগরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। পরে মিছিলটি বিজয়নগর, কাকরাইল মোড় থেকে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে হয়ে ফিরে আসার সময় হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হন।
তবে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তারা জাপা কার্যালয়ের সামনে দিয়ে মিছিল নিয়ে আসার পর তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় জাপার নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে জাপার নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তারা কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভেতরে ছিলেন দলের মহাসচিব ও বাকি নেতাকর্মীরা। সে সময় হঠাৎই নূরের লোকজন এবং বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের উপর চড়াও হয় এবং হামলা চালায়। এতে ভেতরে মহাসচিবসহ অন্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়ার প্রায় আধঘন্টা পর তাদের ভেতর থেকে বের করে আনা হয়।
এর আগে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পুলিশের সঙ্গে চলে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুরো এলাকা তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে সরিয়ে দেয় হামলাকারীদের।
তার আগে বিক্ষুব্ধ জনতা জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি প্রধান গেটের তালা ভেঙে ফেলে এবং শাটারের তৈরি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আগুন দেয়। সেখান থেকে একটি আলমারি বের করে এনে সড়কে আগুন দেওয়া হয়। কার্যালয়টির সামনে কিছু ব্যানার ফেস্টুন ছিল। সেগুলোতেও পরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
জাপা কার্যালয়টির যে কক্ষে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেটির ভেতরে থাকা দলটির রাজনৈতিক লিফলেটসহ বিভিন্ন বইপত্র সরানো হয়েছে। আগুন লাগলে জলকামান থেকে সেটির ভেতর পানি ছেটানো হয়। ফলে আগুন বেশি বাড়তে পারেনি।
পাশাপাশি হামলার সময় জাপা কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামফলক ও ফলকে খচিত এরশাদের প্রতিকৃতির কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এসময় পুলিশ এবং হামলাকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে জাতীয় পার্টির মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
নদীবন্দর/এএস