1. badsha.dru@gmail.com : admi2017 :
  2. nadibandar2020@gmail.com : Nadi Bandar : Nadi Bandar
আজ ভয়াল ২৮ অক্টোবর - Nadibandar.com
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন
নদীবন্দর,ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০ বার পঠিত

আজ ভয়াল ২৮ অক্টোবর। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটি এক বিভীষিকাময় স্মৃতি হয়ে আছে। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টনে যে নৃশংস সহিংসতা ঘটেছিল, তা শুধু রাজনীতির নয়, মানবতার ইতিহাসেও এক গভীর কলঙ্ক হয়ে আছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, মৃতদেহের উপর উল্লাসের দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়েছিল পুরো দেশ, কেঁপেছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও।

২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চরমে পৌঁছায়। ২৭ অক্টোবর রাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন, চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। ঠিক পরদিন ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোট একই এলাকায় পৃথক কর্মসূচি নেয়।

সকালে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে জামায়াতের সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু দুপুরের আগেই পল্টন-মুক্তাঙ্গন এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লগি-বৈঠা হাতে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা বিজয়নগর ও তোপখানা দিক থেকে এগিয়ে আসে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাজুড়ে শুরু হয় বোমা, ইটপাটকেল ও অস্ত্রের ঝড়।

পল্টনের ভয়াবহ দৃশ্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা
দুপুরের পর পল্টন মোড়ে ঘটে নির্মম দৃশ্য। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন মানুষকে লগি-বৈঠা দিয়ে নির্দয়ভাবে পেটানো হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মী। তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম অন্যতম। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রের দাবি, মৃত্যুর পর তাদের দেহ নিয়েও অমানবিক আচরণ করা হয়।

এই ভয়াবহতার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় ও সংবাদপত্রের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। ‘লগি-বৈঠা’ শব্দটি তখন থেকে দেশের রাজনৈতিক অভিধানে এক বিভীষিকাময় প্রতীকে পরিণত হয়।

ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিশ কাছেই ছিল, কিন্তু তারা তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বোমা, গুলিবর্ষণ ও পিটিয়ে হত্যার পরও ঘটনাস্থলে নিয়ন্ত্রণ আনতে সময় লেগে যায় বিকেল পর্যন্ত। পরবর্তীতে বিডিআর সদস্যরা মোতায়েন হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও প্রত্যাহার বিতর্ক
পরদিনই জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানায় মামলা করে। মামলায় আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের ৪০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। তদন্তের পর ২০০৭ সালে আদালতে চার্জশিট জমা হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালত তখন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি মামলা ‘জনস্বার্থে’ প্রত্যাহার করা হয়। এই তালিকায় পল্টনের সেই হত্যা মামলাটিও ছিল। আইনজীবীরা তখন বলেন, হত্যা মামলা বাদীর সম্মতি ছাড়া প্রত্যাহার করা আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার তা করেছে রাজনৈতিক বিবেচনায়।

ফলে আজও এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ এখান থেকেই আরও গভীর হয়।

নিহতের পরিবারের ক্ষোভ ও বেদনা
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আজও ন্যায়বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছেন। জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নারগিস আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কার কাছে বিচার চাইবো? জালেম কখনো বিচার করে না।

মাসুমের মা শামসুন্নাহার রুবি বলেন, আমার ছেলে আর ফিরবে না, কিন্তু চাই যেন আর কারো ছেলে এভাবে না মরে। তাদের কণ্ঠে একটাই আবেদন, ‘দোষীদের বিচার হোক, সত্য প্রকাশ পাক।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠার ঘটনা শুধু কয়েকজনের হত্যাকাণ্ড নয়, বরং রাজনৈতিক সহিংসতার স্থায়ী দৃষ্টান্ত। রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা হারানো, প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করা, এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল প্রতিক্রিয়া। তাদের মতে, ২০০৬ সালের ওই সহিংসতা পরবর্তীতে দেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতিকে আরও গভীর করে দেয়। প্রতিটি বড় রাজনৈতিক আন্দোলন বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাতে এখনো সেই লগি-বৈঠার ছায়া দেখা যায়।

নদীবন্দর/জেএস

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Nadibandar.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com