ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করে তুলবেন।
তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি নির্বাচন অত্যন্ত মসৃণ ও উৎসবমুখর পরিবেশেই হবে। এ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।’
শনিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের স্বাধীনতার পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান স্মরণ করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবিলা ও জাতি গঠনে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে আসছে।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন এবং চলমান রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও সংস্কার কার্যক্রমেও সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের আস্থা রক্ষা করে এসেছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্বের প্রতি অনুগত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে দেশের জন্য এমন অবদান ও ত্যাগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, আহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা—এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভবন ধসসহ বিভিন্ন ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনী গঠনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫ মার্চের হামলার পর তৎকালীন মেজর এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে-যা এখন সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে প্রতি বছর উদযাপিত হয়।
‘এরই ধারাবাহিকতায় ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী একসঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। তাই ২১ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের এক মাইলফলক হিসেবে গৌরবের সঙ্গে উদযাপিত হয়।’
সরকারপ্রধান বলেন, যদি বিজয় অর্জিত না হতো, তাহলে এই সাহসী সৈন্যদের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হতো, আর তাদের পরিবারকে ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হতো।’
সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নিজেদের জীবন কিংবা পরিবারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা না করেই তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আর তাদের এই আত্মত্যাগ ভূমি, নদী ও আকাশপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকেও অনুপ্রাণিত করেছিল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতার যুদ্ধে বাংলাদেশের বাহিনী ১১ সেক্টরে সংগঠিত হয়ে সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক ও গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়, যার ধারাবাহিকতায় ২১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে- বলেন সরকারপ্রধান।
নদীবন্দর/এএস