1. badsha.dru@gmail.com : admi2017 :
  2. nadibandar2020@gmail.com : Nadi Bandar : Nadi Bandar
বিকল্প বাঁধ হয়নি, জোয়ার তলিয়ে দিচ্ছে আর ভাটা সব টেনে নিচ্ছে - Nadibandar.com
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
নদীবন্দর,সাতক্ষীরা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৫ বার পঠিত

২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খালপেটুয়া নদীতে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এখনো প্রবল স্রোতে হু হু করে পানি ঢুকছে লোকালয়ে।

এরইমধ্যে আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু বেড়িবাঁধে।
ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে খোলপেটুয়া নদীর অন্তত দেড়শ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, চেঁচুয়া, কাকবসিয়া, পারবিছুট, বাসুদেবপুরসহ আশপাশের অন্তত ৮-১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ভেসে যায় অসংখ্য মৎস্য ঘের।

আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বাঁধ ভেঙে প্রবল জোয়ারের পানিতে প্রায় চার হাজার বিঘা জমির ধানসহ অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বাড়িঘর পানির নিচে ডুবে গেছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের পরপরই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প রিং বাঁধ তৈরির চেষ্টা করলেও প্রবল জোয়ারের তোড়ে সেই বাঁধও ধসে পড়ে। ফলে নতুন করে আরও বেশি এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।

আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ মাত্র একদিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। দুপুর ও রাতের জোয়ারের কারণে ভাঙন আরও গভীর হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। এখন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বেড়িবাঁধ ভাঙনের কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, মৎস্য ঘেরে লবণ পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা পাইপের কারণে বেড়িবাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে এই ভাঙনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙনকবলিত বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি অবিলম্বে অবৈধ পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সাইদুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা জানান, কাল থেকে এ পর্যন্ত চার বার জোয়ার-ভাটার কবলে পড়েছে প্লাবিত গ্রামগুলো। জোয়ারে সবকিছু তলিয়ে যাচ্ছে, ভাটায় সবকিছু টেনে নিয়ে যাচ্ছে নদীতে। এতে কাঁচা ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আশাশুনি উপজেলা টিম লিডার আবদুল জলিল বলেন, মূল যে পয়েন্টে ভেঙেছে, সেটাতে একটি পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম ছিল। যতগুলো ভাঙন পয়েন্ট রয়েছে, সবগুলোই পাইপলাইনের কারণে হয়েছে। এখন যদি আমরা এই পাইপলাইন বসানো বন্ধ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটবে।

তিনি বলেন, পানিবন্দি মানুষ এখন খাবার সংকটে পড়েছে। অনেক পরিবার উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ শুরু করলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

মঙ্গলবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাওবো) কর্মকর্তাদের নিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারি, তাহলে পরবর্তী জোয়ারে আরও প্রায় আধা কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।

জেলা প্রশাসক বলেন, এরইমধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগকে একত্রে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আমাদের সহযোগিতা করছেন, আমরা যত দ্রুতসম্ভব বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছি।

নদীবন্দর/এসএইচবি

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Nadibandar.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com