সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ভাঙনকবলিত বিছট গ্রামে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বানভাসি নারী-পুরুষ। ‘সংস্কার নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই, দাবি মোদের একটাই টেকসই বাঁধ চাই’ শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শুক্রবারে স্থানীয় বিছট গ্রামবাসীর উদ্যোগে গ্রামের ভাঙন পয়েন্টের কাছে বেড়িবাঁধের উপর দাঁড়িয়ে তারা এই মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বানভাসী শত শত নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে ওয়াসিম আকরা বলেন, বিগত ২৫-৩০ বছর ধরে বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাঁধে ভাঙন চলছে। অব্যহত নদী ভাঙনে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে মোড়ল বাড়ি ও গাজী বাড়ি জামে মসজিদ, একটি এবতেদায়ি মাদ্রাসা, সরকারি পুকুরসহ অসংখ্য স্থাপনা। বসতভিটাসহ সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে গ্রামের শতাধিক পরিবার। গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বহু পরিবার। হুমকির মুখে রয়েছে বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
মোঃ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এই গ্রামের বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটে গ্রামবাসীর। তারা সারারাত জেগে বেড়িবাঁধ পাহারা দেয়। কিন্তু অদ্যবধি টেকসই বাঁধ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় সংষ্কার করলে হবে না, টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বিছট গ্রামে টেকসই বাঁধ নির্মাণের কোন বিকল্প নেই। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রাবেয়া খাতুন বলেন, অব্যাহত নদী ভাঙনে বিছট গ্রাম একরকম বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তাদের বাপদাদার ভিটা হারিয়ে গ্রাম ছাড়া হযেছে। নদী ভাঙনে সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে আমরা স্থায়ী মুক্তি চাই, তা না হলে পুরো বিছট গ্রাম একদিন সর্বগ্রাসী খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তিনি দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
নদীবন্দর/জেএস