জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার যোগদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এবারের অধিবেশনে ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেবে। এরআগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করেছে মার্কিনিরা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিন অথরিটি (পিএ) এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ‘ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাতিল’ করতে যাচ্ছে তারা। তবে জাতিসংঘের সদর দফতর চুক্তি অনুযায়ী ভিসার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি মিশন যে ছাড় পেতো সেটি পাবেন তারা।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও দেশটির প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ নাও দিতে পারেন।
সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মেমো পেয়েছে। এতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ অন্যান্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।
ভিসা নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করছে যে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে মার্কিন আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং ফিলিস্তিনি অথরিটির সদস্যদের ভিসা বাতিল এবং প্রত্যাখ্যান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শান্তি আলোচনায় গুরুতর অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আগে, তাদের অবশ্যই সন্ত্রাসবাদকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং একটি কাল্পনিক (ফিলিস্তিন) রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি খোঁজা বন্ধ করতে হবে, যা ফলপ্রসূ নয়।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কয়েক দশকের যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আলোচনায়ও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান হয়নি বা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে মাহমুদ আব্বাসের দফতর। তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের ১৯৪৭ সালের ‘হেডকোয়ার্টারস অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর লঙ্ঘন। এই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকদের জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বলছে, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে ভিসা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
নদীবন্দর/এএস