রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে আজ থেকে চালু হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। প্রথম ধাপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সাতটি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। ধীরে ধীরে পুরো শহরে এ উদ্যোগ বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই সিস্টেম বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে যানজট নিরসনের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কর্মঘণ্টার অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশে ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোনো প্রকল্পই সফল হয়নি।
২০০১-০২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর ৭০টি ইন্টারসেকশনে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বসানো হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো সিস্টেম বিকল হয়ে যায়। এরপর ২০১২-১৩ অর্থবছরে ‘ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ২৯টি ইন্টারসেকশনে নতুন সিগন্যাল বসানো হয়।
বিশ্বব্যাংক এ জন্য ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে সিস্টেম চালুর পরও সঠিকভাবে পরিচালনা না করায় সেগুলোর কার্যকারিতা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ডিটিসিএ চারটি ইন্টারসেকশনে অটোমেটিক ট্রাফিক সিস্টেম বসানোর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু সেটিও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে প্রত্যাশিত সুফল পায়নি নগরবাসী।
এবারের উদ্যোগে সরকার আশাবাদী। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে হাইকোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সাতটি ইন্টারসেকশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে মোট ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার জানিয়েছেন, এই পাইলট প্রকল্পের উদ্দেশ্য মূলত সচেতনতা তৈরি ও প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাই। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগে কোথায় ত্রুটি থাকতে পারে, কীভাবে তা সংশোধন করা যায়—এসব যাচাইয়ের জন্য দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈনউদ্দিন জানান, রাজধানীজুড়ে সিগন্যাল অটোমেশন সিস্টেম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুই সিটি করপোরেশন দরপত্র আহ্বান করেছে। তিনি বলেন, এবার আর অতীতের মতো ব্যর্থতা আসবে না, কারণ সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ট্রাফিক কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, নতুন সিস্টেম কার্যকর হলে সিগন্যাল ভাঙার মতো অপরাধ আর সহনীয় থাকবে না। কেউ সিগন্যাল অমান্য করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা দিতে হবে।
নদীবন্দর/ইপিটি