মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানো ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর আশ্রয়, খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ওই ভূমিকম্পে ২০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে একটি স্কুলের প্রায় ৫০ জন প্রিস্কুল শিক্ষার্থীও রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরের দিকে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। এটি প্রাচীন প্যাগোডা থেকে শুরু করে আধুনিক ভবনগুলোকেও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
মিয়ানমারের মান্ডালে এলাকায় একটি স্কুল ধসে পড়ার ফলে ৫০ জন প্রিস্কুল শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সংস্থা।
সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে … জনগণ তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সংগ্রাম করছে। যেমন বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাব। অন্যদিকে, জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের খুঁজে বের করতে এবং জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, মান্ডালে এবং ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে আশ্রয়, খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সহায়তা খুবই জরুরি।
আইআরসি-এর এক কর্মী জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পার করার পর এখন মানুষ আফটারশকের আতঙ্কে রয়েছে এবং তারা রাস্তায় বা খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, তাঁবুর খুব বেশি প্রয়োজন, কারণ যাদের বাড়িঘর অক্ষত রয়েছে, তারাও ভেতরে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছেন।
মিয়ানমারের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ২০৬৫ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৩৯০০ জনেরও বেশি, এবং কমপক্ষে ২৭০ জন নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির সামরিক সরকার সোমবার থেকে এক সপ্তাহের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে আহত ও গৃহহীনদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে সেতু, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং জান্তা সরকারের কঠোর যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ত্রাণকার্য পরিচালনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার আশায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নদীবন্দর/জেএস