দীর্ঘদিন কিডনি রোগের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফরিদা পারভীন। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। বৃষ্টির মধ্যে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে শহীদ মিনারে ঢল নামে অগণিত ভক্ত-অনুরাগীদের।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহর নামাজের পর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জানাজা শেষে ঢাকা ছেড়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে ফরিদা পারভীনের মরদেহ। গায়িকার পরিবার জানিয়েছে, কুষ্টিয়ায় দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে তাঁকে কুষ্টিয়ার পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ফরিদা পারভীনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ কুষ্টিয়ায় নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ফরিদাকন্যা জিহান ফারিয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘মা মর্যাদা নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তার শেষ ইচ্ছে ছিল কুষ্টিয়া যাওয়ার। বাবা-মার কবরের পাশে দাফন করার শেষ ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি।’
তার ছেলে ইমাম নাহিল বলেছিলেন, ‘মাকে আমরা কুষ্টিয়াতে দাফন সম্পন্ন করব, তার ইচ্ছা অনুযায়ী।’
১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম হয় ফরিদা পারভীনের। লন সংগীতশিল্পীর বাবা প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন পেশায় ছিলেন সাধারণ চিকিৎসক। মা রৌফা বেগম। গানে গানে কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে ফরিদা পারভীনের পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়।
সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান তিনি। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা রয়েছে তার। এছাড়া ২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারও পেয়েছেন। সেরা প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন ১৯৯৩ সালে।
নদীবন্দর/জেএস